শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার মুখোশ খুলে দিল জাতিসংঘ!

Loading...

বাংলাদেশ এখন সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পুরো দেশই এখন ভাসছে শেখ হাসিনার কথিত উন্নয়নের জোয়ারে। আগামী ২০২১ সালের পরই বাংলাদেশ প্রবেশ করবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তিনি। দেশের মানুষ এখন পেট ভরে খেতে পারছে। খাবারের অভাবে এখন আর কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায় না।

এক সময় নাকি সেনা বাহিনীর সদস্যরাও দিন তিন বেলা ভাত খেত পারতো না। তিনি ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করেছেন। তার সবচেয়ে বড় দাবি হলো-তিনি এদেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন।

Loading...

শেখ হাসিনার ভাষায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশের ঠিক মতো খাবার পেত না। ভাল খাবার তো দূরের কথা বাঁচার জন্য মানুষ ঠিক মতো তিন বেলা ভাতও খেত না। ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের জন্য বিদেশ থেকে টাকা এনে তারা নিজেদের পকেট ভারি করেছে। অসহায়-দরিদ্র মানুষের মুখের খাবার বিএনপি-জামায়াত নেতারা কেড়ে নিয়েছে।

অথচ, বিভিন্ন জরিপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী দেশের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তার দাবি পুরোই ভিত্তিহীন। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের অভাবে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এছাড়া খাদ্যের অভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাবা-মা তাদের কলিজার টুকরা সন্তানকে বিক্রি করে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও, কৃষি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক তহবিল, শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ছয়জনের একজন ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য। গত এক দশকে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। ২০০৪ সালে যেখানে এর সংখ্যা ছিলো ২ কোটি ৩০ লাখ সেখানে ২০১৮ সালে তা এসে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখে।

জাতিসংঘের দেয়া তথ্য মতে, শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ বেড়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতো কিংবা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত হতো তাহলে পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা কমার কথা ছিল। ২ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে কমে ২ কোটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের বাড়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয় শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলে করে আসলেও জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, শেখ হাসিনার সব কিছুই বায়ূবীয়। কথিত উন্নয়ন শুধু তাদের গলাবাজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দুর্নীতি-লুটপাট ছাড়া দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের। পেট ভরে ভাত খেতে পারছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

Loading...
Updated: August 8, 2019 — 9:27 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *